বিপ্লব প্রতিটা মানুষের

পান্ডুলিপি 

বিপ্লব প্রতিটা মানুষের

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


উত্তরে


অন্দর মহলে যে আওয়াজ আসে ভেসে তা ভবিষ্য কবিতা ভেবে টুকে রাখি ঘোলাজলে। প্রাণহীন এক অচঞ্চল ভ‚মির আর্তনাদে আমি যুদ্ধপরাধী হই। ভাবলাম, হতে পারে। আমরা এখন বড় বেশি বিদেশি। কিরনমালা আর রাখি বন্ধনে আটকে আছি। দশ আঙুল মহাসড়কে যুক্ত হতে না পেরে সংবিধান দেখাই। আমরা মানবতা বুঝি মঙ্গা বুঝি না।



এ শহরে কোনো জ্যান্ত মানুষ নেই


আসলে গল্পই

গোলটেবিল, মিছিল, স্লোগান আর ছারপোকার উল্লাস

নতুন নতুন তত্ত¡, কমিটি, উপকমিটি

মুখজুড়ে কবিতা, বুকজুড়ে আগুন অথচ গালভরা হাসি

প্রভুদের গুণগান।


এখানে কোনো জ্যান্তমানুষ নেই


বহুকাল চলে গেলে শরীরে শরীর আঁকি

ট্রাঙ্কের ভিতর কবিতা রেখে মানুষ হতে চাই

আদতে, এখানে কোনো জ্যান্ত মানুষ নেই।



কবিতা কখনো কারাগার চায় না


তোমরা যারা

কবিতায় ব্যাকরণ খোঁজ

সাধু-চলিতের তফাৎ খোঁজ

ইতিহাস আর ঐতিহ্যের ঝলক চাও

তোমাদের দাবির অসনে গিয়ে কবিতা হারিয়ে যায়


আমি তোমাদের কবিতা চাই না

অস্তিত্বের উচ্চারণে যদি রক্ত ঝরেÑ তাই হোক

নিত্য ব্যবহার্য শব্দ ব্যাকরণসম্মত না হয় হোক

শব্দের ঝনঝনানি হোক


আমিÑ

কবিতার সীমানা মানি না



কবিরা এখন সংরক্ষিত আসনে


কবিরা নিশ্চুপ কোলাহলে

অলিগলি মাতিয়ে রাখে উৎসবে, নগর-জনপথ।

পদকের ভারে ভারে লুটিয়ে পরে প্রভুদের পায়ে;

লবিংএ ব্যাস্ত কবি,

                   তোষামোদ

রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে আলখেল্লা পড়ে।

মা বন্দনা করে ফেভারে থাকতে চায়

কবিরা এখন এপাড়ে থাকে না,

                রাস্তা এখন মন্ত্রীপাড়া

কবি এখন সংরক্ষিত আসনে।



কিশোরীর চঞ্চল বুকে স্বপ্নের আবাদ


প্রতি রাতে বেড়িয়ে পড়ি স্বপ্নের খোঁজে। ভদ্রতার জামাকাপড় গায়ে লেপ্টে থাকা বালির বাঁধের মতো আমার শিরদাঁড়া আসছি বলে মুচকিয়া হেসে লুটোপুটি খায় স্বপ্নের দোর-গোড়ায়। অতঃপর নির্বুল অক্ষরে ষড়যন্ত্র করে সচক্রিয়ায় চোরাগুপ্তা আপসে।

বলে রাত্রির খোঁজ কোথায় পাই।

কৃষকের উর্বর জমি আবাদে বিনাশ হয়, জরাজীর্ণ আকাশের পানে তাকায় বাঁশির সুরে। আর আমার স্বপ্নগুলো আতিপাতি হয়ে আ¤্রয় খোঁজে ঐ জমিনে। জলদস্যুর মতো ক্লান্ত কিশোরির বুকে চঞ্চল হয়ে উঠে উন্মাদ আচরণে।

নির্জন উঠোনে জড়াজড়ি হয়ে থাকা আমার স্বপ্নগুলো ঘুমরোদ পাড় হয়ে রেলিঙে উপচে পড়ে গোলাপ হয়ে। এ সময় ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে সময় ঘড়ি- ভোরের উন্মাদনা।


সরে যায় আগুনের ভাষা।



দৈত্যের বাগানে ফুল ফুটে না


দু’হাত বাড়িয়ে যতটুকু ছুঁতে পার ওটা তোমার আকাশ নয়

তুমিতো এক অদ্ভুত উটের পিঠে

ছুঁড়ে মারা কাদা কোনোদিন লাগেনি গায়

তাই বোঝনি কখনো তুমি যে শহরে থাক সেটা দৈত্যের শহর

সেখানে কেউ মৃত্যুর পর হাসতে জানে না।



পারমানবিক


নদী যখন খাল হয় নগরী উঁকি মারে আকাশে

বেওয়ারিশ লাশ ভাসে অস্বচ্ছ জলে যে জল আমিও পান করেছি কৈশোরের ঘুড়ি উড়া বেলায়

এখন তোমার বুকেও ইট-পাথর

পথ ছোট হয়ে আসে চটকল শ্রমিকের

ইতিহাস দীর্ঘ হয়, পথ দীর্ঘপ্রহর। যুদ্ধবাজ ঘোরের বহর, কামান, বন্ধুক



পুতুল


চলুন জোছনায় কিছুদূর হেটে আসি

মুখ ব্যাঙচিয়ে ক্যামেরার আলোয় সেলফি তুলি

আপাতত এছাড়া আর কাজ নেই;


কি করবেন আর কি করবেন না সেটা আপনার বিষয় নয়

আপনি পুতুল হবেন

হ্যাঁ বললে হ্যাঁ বলবেন, না বললে না

সময়ে সময়ে অতিভক্তিও দেখাতে পারেন

পেয়েও যেতে পারেন চেঁটে খাওয়ার মতো পা

পেয়ে যেতে পারেন পদ পদবী অথবা চেয়ার।



বিপরীত


ঘরের ভিতর উঠোন হলে বোঝেনা পর-আপন তফাৎ। তাই পাপেদেরও বয়স বাড়তে থাকে। সেই সাথে বাড়ে কাঁটার বিপরীতে যন্ত্রণা বেশাত। দুচোখে তখন হাসি আর ক্রন্দন রেখার সমতল। মুখস্ত মানচিত্র। 



নদী আমার চোখের ভেতর জল খুঁজতে চায়


পথ ভুলে গেছি। হারিয়ে গেছি শূন্যে; অতঃপর খুঁজে ফিরি আমাকেই। জগৎ আঁকি নতুন করে। আমার জগৎ। এখানে শুধু বালিয়ারি আর সরু এক নদী, যে নদীর একটাই শুধু দিক। সে নদীর পথ ধরে  হাঁটি। এবার আমি হারাই না, আমাকে নদী হারিয়ে ফেলে। উদাস হয়ে চেয়ে থাকি... নদী আমার চোখের ভেতর ঘুরে আসতে চায়।



ফায়ারিং


এইখানে কিচ্ছু রবে না

ডুমুরগাছ, ধানক্ষেত, লাউমাচা সামনে রাখা বাড়ি

নৌকো-উচাটন করা দোলা বর্ষাদৃশ্য, হেমন্তের কাশফুল

বাস্তসংস্থান।


ক্রসফায়ারের পাকে-দুর্বিপাকে টেনেহিঁচড়ে ধরে রাখা মেধা ও শরীর


অনেক বাতাস ও ঘ্রাণ গুম হয়ে আছে

আশা রাখি জ্যোৎ¯œাও গুম হবে আঙ্গুলের খোচায়।



পূর্ব


ওই দিকে আমার সখাদের বাড়ি। বর্ষার ডাকে আমি যখন নৌকো বাই পূর্বে, আমার সখারা আদিখেতা দেখে মুচকি হাসে। আমি তখন উত্তর না দিয়ে আরো পুবে চলে যাই। ব্রহ্মপুত্র আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। স্রোতের উল্টাদিকে দাঁড় বাই বলে নেমে যাই সাবদী ঘাট। এখানে সব একসাথে পাই। মাটি পানি আর আকাশ।



বিপ্লব প্রতিটা মানুষের


শুধু ভেবে আছ সবকিছুতে তোমাকে খুশি করতে হবে। ভুল; তুমি ভুলভাল জ্যামিতি শিখে আছ। ডিম খাবে না হাঁস খাবে সেটা না শিখে লুটোপুটি খেলো। বিপ্লব প্রতিটা মানুষের; আমি তোমার জন্যে বিপ্লব করব কেন? পিতামহ পাহাড় তসবিহ না পড়ে অন্তত কাঁকড় হতে শেখো।



বোকা শহর


বোকা হলেই মানুষ মানুষের হৃদয় খুঁড়ে। আগুন বৃষ্টি চায়। নিশিডাকে সাড়া দিয়ে অকারণে ভয়। বোকারা এমনই হয়। সংসদীয় ছানাপোনায় বখে যাওয়া পৃথিবীতে বোকা হতেই হয়।


শহর কখনো বোকা হয় না। শহর চায় না শূন্য জনপদ।


 

মনমৈথুন


অন্ধমনে ফরমালিনমুক্ত মানুষ খুঁজি। সকল ভাবনা বিক্রি করে চিৎকারের অর্থ খুঁজি সংশয়ে। কিচ্ছু করার নেই জেনে প্রাচীর টানি। দাবানল পুষিয়ে রাখি, হাঁসফাঁস করি।


মোড়কজাত পণ্য, স্বল্প দাম আর বিজ্ঞাপনে আটকে যাই।


মনে মনে গুষ্টি উদ্ধার করি, খুন করি। মনের থলেতে রাত কাটাই, দিন কাটাই। মনের ভেতর ঘুরপাক খায় ফ্যান্টাসি।



মাটি হতে চাই

 

আমিও হাটি বিপন্ন পুরাণে। নেমে আসি চুপচাপ দ্বিধার অন্ধকারে। পথ হাটি মরুতে মরুতে অথবা নদীর ধারে।

 

মানুষ জানতে যাই মাটির কাছে। মিশে যাই ইতিহাসে। জোনাকি ঠেলে খুঁজি সাদা কাশবন।



যখন আগুন হই


ঘুমকে পাশে রেখে ধ্রæপদী তিন ভাগ জলের কাছে অবনত হয়ে নিদ্রাহীন হলে মেহগনি শরীর ভাসায়। ভ‚মির শরীরে অভিমানে মুখ লুকায় দূর বৃক্ষদের রেণু। ইতিহাসে ভিজতে আপত্তি নেই তবুও বৃক্ষের মতো আমিও ঊর্ধ্বমুখী: উঁকি দেই আসমানে। এক মানচিত্র মনে চাইতেই সামনে দাড়ায় অস্বচ্ছ জল, কদম্বকুয়ো। ভক্তি প্রিয় জলে পবিত্র বালক মজে অঘোর বিলাপে। ততক্ষণে সবাই পালিয়ে গেলেও একা একা দাঁড়িয়ে আগুনের খোঁজ।

দৃশ্যটা এখানেই মুখোমুখী। আগুনকে জ¦ালিয়েই ছাড়ি। আগুন অঙ্গার হয় আর আমি হই আগুন।



রক্তকীট


আবরার আমার ভাই

আমরা এক নদীরই গান শুনি, খাই, ঘুমাই

হাঙরের সাথে বিরোধিতা করে জন্ম ও মৃত্যুর অনন্ত সেতু গড়ি

কাস্তে লাঙ্গল হাতুর শাবল ধরি।


রক্তকীটেরা হুংকারে হুংকারে

অভিসম্পাতে অভিসম্পাতে আটকে যায় পদভারে

আগামীর পথে যত বাধা আছে মাড়িয়ে যাই শুধু মানুষের কল্যাণে

চাপা দিই যত রোদ-বৃষ্টির বানে।



সকল নিষিদ্ধ উপেক্ষা করে


বহুদেশ ঘুরে ঘুরে সীমানায় পেয়ে যাই ত্রিপিটক

আরাকান রিফুজি-রোহিঙ্গা পথ ও পা, পায়ের জুতো

গৌতমের নীতিগীত, বুদ্ধের চুলের মিথমন্ত্র।

বার্মিজ রাজকুমারী, আমি তোমার প্রেমে পরেছি। তাইতোÑ

মেপল লিপের ছায়ায় দেশান্তরি আমি বন্ধুকের চোখ রাঙানিতেও লবণাক্ত নাফ;

রেঙুন তুমি দরোজা খোল, আমি নিষিদ্ধ পালি ভাষায় হাঁটতে চাই।




সড়ক


সমাধিস্ত করে দাও রোদে পুড়ে যাওয়া সড়কে যেখানে বইছে রক্তের নদী

যে শিশুর দাবী নিরাপদে বাঁচার, সে তো মরে গেছে

ডুবে যেতে যেতে যে শিশু চেয়েছিল মাখনগলা চাঁদ আমারই জন্যে।


পায়ের তালুতে লেগে থাকে লাল জ্যোৎ¯œা চুপিসারে

দ্রæত অদৃশ্য পা, তাকাই পুনর্বার, দেখি কিছু সাদা ফুল আরক্ত লালে




অগ্রজ


বড় বেখাপ্পা সময়

বস্তা পচা সংলাপ, দাবিদার ঠোঁট, টকটকে লাল

সহজ কাব্য আত্কা চিল্লায়

কর্মহীন যুবক অপরিচিত কোনো গুজবে সিরিঞ্জ ঢুকায়

দৃশ্যত আমরা অন্ধ্য সেজে বসে থাকি, খুজি জৈবিক খোয়াব

আস্তিক-নাস্তিক হয়ে মানুষ হতে চাই

ভিনদেশী বুলি আওড়ে দর্শন মারি

মানুষ বানাতে চাই

আমি মানুষ হতে পারি না।




অচেনায় ভয় আমার নেই


আড়ালে আবডালে করি না, যা করি

সামনা সামনি। মগজে মতলুবি রেখে

ভবিষ্যৎ খুজি না আমি। সহস্র বছর ধরে সময়ের অপেক্ষা করে চেনা পথে পা বাড়াই। ভেবোনা আমি দূর্বল

অচেনায় ভয় আমার নেই।

স্রোতে গা ভাসিয়ে রাস্তাটা আমি ঠিকই চিনে নিই

যেটা কুড়িয়ে পাই, আশ্রয়ের খুঁটি ধরে আগলে নিই অভিযোগহীনভাবে।

যারা মিথ্যের বেসাতি করে চৌষট্টি কলার ইতিহাস ঘাটে আমি সে দলে নেই।

তাই চেনা পথ না পেলে মাঝে মাঝেই অচেনা পথেই হাঁটি

অচেনায় ভয় আমার নেই।




অহিসেব


দাড়ায় না সংকটে, মুখস্ত জীবন

বৃষ্টি জলে ধুয়ে  যায় উর্বর জমিন স্রোতের অপেক্ষায়

এ আমি অন্য কেউ অনুভ‚তিহীন

শরীর ছুঁয়ে দিলেও ঋতুর নিয়মে বর্ষা আসে না।

নিখটুত পরিপক্বতায় তুলির আচঁরে অশ্রæ ঢাকা পরে

অর্ধহিসেবে যোগফল কমতে থাকে, খালি হতে থাকে হালখাতা

গুণ, ভাগ করেও মেলাতে পারে না হিসেব

প্রæফের বান্ডিল, বলপেন

মঞ্চে তাকিয়ে থাকে। এখানে শুধু বিস্মিত হবার পালা




আমিও মানুষ


নোংরা যানজট নর্দমাময়

গিঞ্জি গলিপথ আলির দোকান কিংবা অমীমাংসিত ঝগড়া

বাঁকানো তারকাটা আর বিবর্ণ রঙচটা দাগে ভর্তি দেয়ালে পোস্টার

সভা-সেমিনারের বক্তৃতা কিংবা শ্লোগান

প্রতিদিনের জীবন যে জীবন রথে বাধা-ছোট্ট চিলেকোঠা

আকাশের মুখুমুখী হয়ে সমাধান খটুজি

পোকায় খাওয়া মানচিত্রে আঁকিবটুকি করে গোষ্টি উদ্ধার করি

বুক ফুঁড়ে বেড়িয়ে আসে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গালি- বালা ম্যানষের বাইচ্চা।



আমাকেই চিনে নিতে হবে পথ


আমাকে দিকভ্রান্ত করতে ডেকেছে কত ধর্মীয় বক, ভালোমানুষ। ডেকেছে কবি দম্পতি, ভবঘুরে উঠতি কবি, পয়সাওয়ালা আমলা ও নেতা।

কালের আগুন স্পর্শ করে আমিও জেনে গেছি, তুমি জ্ঞানী কাক সুযোগ পেলেই চম্পটপবন।



আমার কোনো পোস্টকার্ড লাগে না


কোনো অর্থ ছিল না তবুও কথা ছিল অনেক। কেউ বুঝেনি। অভিমানের মূল্য নেই জানি তারপরও কেন জানি না টিকেট কেটে বসে পরলাম অজানার পথে। ক্ষমা প্রার্থনা করে কিংবা নতমুখে বসে থেকে সিগন্যালের অপেক্ষার কোনো অর্থ হয় না। কৈশোর পেরিয়ে কত যে অলিগলি ঘুরেছি; বাধ্য হয়ে নীড়েই ফিরে এসেছি। শালবনে লুকিয়ে গিয়েছি; মেঘ আমাকে ছোঁয়নি, সময় আমায় খুঁজে পায়নি। কোনো আদালত ছিল না, না কোনো সৌজন্যবোধ। অথচ কৈফিয়তের কড়ে আঙুল চুষতে চুষতে পার করতে হচ্ছে সময়। বিবেচনাগুলো দিব্যদ্রষ্টা হয়ে তর্ক বাধতে মগ্ন। আমি কাউকে অভিযোগ করছি না, আবার কারো সিলেবাসে দুশ্চিন্তার অধ্যায় যোগ করতে বলিনি। আমার কোনো পোস্টকার্ড লাগবে না, কেন না এ চিঠির কোনো প্রাপক নেই।



উচ্চতর চিন্তা


অপেক্ষায় থাকি আপনি বড় হবেন কবে। আপনার আদিক্ষেতায় গোপনে জমিয়ে রাখি আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি। তবুও আপনার যৌক্তিক চিন্তায় সংযমক্রিয়া কিছুটা গিঁট ছিড়ে। বড়সড় অক্ষরে তাই শেষ করি পঞ্জিকা পাঠ। হজম হবে কিনা বলতে পারি না।

বহুদিনের না পাওয়ার পুঞ্জিভুত ক্ষোভ নাজেহাল করে আপনাকে আমাকে। আদর্শযুগীয় মতবাদে আপনি খুব উঁচুতে উঠে গেছেন ভাবেন হয়তো, তাই পৃথিবীতে হাঁটতে চাইলে জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে আসতে হবে। ততদিনে আমি কৌশলী হয়ে যাব। আপনাকে দেব রোদমাখা বাতাস। এখন না হয় নিঃসঙ্গ পাহারাদার হয়ে রই।


করাতকল


একটা করাতকল কিনেছি আমাকে টুকরো টুকরো করবো বলে। তারপর এক টুকরো দেব জন্ম থেকে আজ অব্দি আমি যেখানে আছি আমার পরিবার; আরেক টুকরো আমাকে সারাক্ষণ যে মানুষটা অকারণে ভাবে, ছটফট করে যন্ত্রণায়, তাকে। আরো অসংখ্য টুকরো করে ভাসিয়ে দেব বাতাসের ধূলিকণায়। আপত্তি নেই, আপনিও নিতে পারেন।




ওয়াক্ থুঁ


তোমার সামনে একটা মদ পাত্র

ঢেলে দিইÑ

সম্পাদিত আলো

কুয়াশা

তুমি বিকৃত মুখে মুর্ছিত

একদলা রক্ত

ওয়াক্ থুঁ

বুকে

মুহুর্মুহু করেছ আঘাত

রাষ্ট্র

আমিও জানি আসমানী কিতাব

ওয়াক্ত হয়েছে তোমার

ফোঁটা ফোঁটা ঝড়েছে

নখ

আঙ্গুল

পা

নীচ থেকে উপরে

গলে গলে পড়ে চোখ, কপাল, চুল


তোমাকে আবারও ওয়াক্ থুঁ




ক্রিকেট কবিদের খেলা নয়


তারা এখন ক্রিকেটও খেলেন। উন্নয়নের ঝালমুড়ি খেয়ে আয়েসে গা এলিয়ে দেন আরাম কেদারায়। মাঝে মাঝে হাত তালিও দেন।

কবিরা এখন তুলোর বল নিয়ে খেলেন লালচে সন্ধ্যায় অদৃশ্য তন্তুর পরিসীমায়


নেই ঢালু প্লাটফর্ম কিংবা নির্জন পার্কের বেঞ্চি; মুছে যায় পতিত নাদ এক গাঢ় নির্লিপ্তির দিকে। মুছে যায় তুষারের শিস।


এভাবেই একটু একটু করে সরে যায় আগুনের ভাষা।




টিপাইমুখ


এসো বসে যাই উন্মত্ত সাগরের একপাশে

উৎখননে তুরে আনি হাজার বছরের পদাবলি

হুমড়ি খেয়ে পড়ি টগবগে যুবক

বিদ্রোহের আগুন টিপাইমুখে


হোক না বহুদিন পর

একা একজন মানুষ- আরো অনেকে...

শুরুটা অঝোর ধারায় না হোক

রক্তের বাষ্পমেঘ জমুক বাধাকপিরর মত

আমার এ কবিতার চরণে।




তুমি কখনো মা হতে পারো না


হ্যাঁ আর না বলে যে তফাতটা বুঝাতে চাও তার কোনো তল খুঁজে পাই না। 

বোবা ক্যানভাসে যা ইচ্ছে তাই একে দিতে পারো শিল্পী তুমি

জলোচ্ছ¡াস হয়ে উল্টে দাও দৃশ্যের নৌকা

সমুদ্র মোহনায় নুড়িপাথর বালুকায় নোনাজলের নৌকা বোঝে জলের নিনাদ

তুমি মহাপুরুষ হয়ে ছক কেটে দাও ভবিষ্যৎ

শত সত্যের মাঝে দু’একটি মিথ্যে ঢুকিয়ে গল্প সাজাও

পাতানো খেলায় জয়ী হয়ে তসবিহ হাতে মা সাজো

আমার মা’ও আছেন বিছানায় শুয়ে; তিনি বসতে পারেন না

তবুও অন্য কাউকে আমি ‘মা’ বলতে চাই না।



নির্ঘুম রক্তের বিছানা নেমন্তন্নে ব্যস্ত


মুখবন্দি সময় শুধু বয়ে চলে

অন্ধগুহাপথে

পালায়

আপাদমস্তক পালিয়ে বাঁচতে চায় আবেগ শরীর

কবি

এটা কী তোমার ধর্ম ?

ভুল করে ঢুকে পড়েছ কী কবি ঘরে ?

তোমার এ অভিক্ষেপ কর্পূরের মতো ঠিকই একদিন উবে যাবে

সারিবদ্ধ তোমার চলাচল আর কত

কবে মূর্ত হবে তোমার এ দূরত্ব রেখা

প্লিজ আমায় গুলি করো

আমার রক্তে ঘুমিয়ে পরুক রক্তের বিছানা।



বন্ধু তোমাকেই বলি


পিঠের উপর ছুড়ি ধরে তুমিবন্ধু কোলাকুলিতে ব্যস্ত রেখেছো খুব। সরল বিশ্বাসে আমিও হাসিমাখা মুখে মেনে নিই সব। তুমি মুচকি হাসো। লুকিয়ে রাখা হৃদয়ে ঢুকতে পারি না আমি। আমার মনের যে বুদ্ধি-সুদ্ধি নাই, জ্ঞান-গরিমা অহংকার কিছুই নাই। আমি জানি, আমার মনের একটা মন আছে। তোমার জ্যামিতিক সূত্রে আমি হারিয়ে যাই। আমার জানা ছিল, তোমার আমার দূরত্ব নেই বললেই চলে। তুমি তা দ্বিপদী সূত্রে মেপে দেখ কয়েক আলোকবর্ষ।

তুমিবন্ধু অচ্ছুত ভেবে দুরে ঠেলে রাখ মনে। উপরে তোমার অক্টোপাশ রঙ; নানাভাবে জড়িয়ে রাখ আমাকে। আমি নিঃশ্বাস নিতে পারি না।



বাক্যবাজি


অসংখ্য পেঁচার মুখ কাদাবালুজলের মতো চারপাশে

অনর্গল থুতুতে অসংখ্য ভ্রæণ খুন আলোর আস্কারা পেয়ে

টেবিলে টেবিলে অসংখ্য বাক্যবাজি, কাতান শাড়ি পড়ে মুচকি হাসি

সময়ে সময়ে হাতে তসবীহ অভিনয়


তবু জানি, মূলরূম মরে গেলে রবে না বেশিদিনÑ

এই এঁদো ডোবা আর আবর্জনাদেশে

রবে না কেউ অনাহূতজনা।


মানুষের হাতে উড়বে একদিন শ্বেতকপোতের পাখা।


 


ভিআইপি


অ্যাম্বুলেন্সে যে আহত আত্মা

ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়ে কাশফুল ফুটে থাকা নদী কিনারায়

স্বাগত জানাতে কেউ আসেনি সেদিন

আগমন পথে তোরণ ছিল যদিও।

শ্যাওলাপোকা আসবে বলে রথচক্র গিয়েছিল আটকে কাদায়

শুশ্রƒষাকাতর ধানক্ষেত গোড়ালি জলে গেল ডুবে।





যে পথে হাটতে চাই


০১.

মেয়েটার হাতে মোটা বাঁশি হলে তুমি খুশি হও

মেয়েটার মুখেও হাসি, জান্তব শহরে মুখোমুখি দু’জন। থমকে আছ;

স্থির দাড়িয়ে আছ দিগন্ত রেখায়।

পৃথিবী উচ্ছন্নে যাক, তোমরা ভালো থাক।


০২.

বানরের নাচ দেখে খুশি হও, মুগ্ধ হও বেআব্রæ পোশাকে,

মুখে তোমার মিশ্র ভাষা, আমি ভাষা হারাই

ফুরফুরে পোশাক মন, দেশান্তরি; শুধু পালাতেই চাও; ঘুরে বেড়াও।

আমি গাছ হয়ে শিকড় গেঁথে গেঁথে সোজা হই। নিষিদ্ধ উপেক্ষা করে ফুল ফুটাই।


০৩.

ঘুমের পাশে কাত হয়ে শুয়ে থাক আর নিঃসঙ্গতার ডালপালা জড়িয়ে ধরুক তোমাকে

আমার পাপের শরীর;

পাথরের ভাঁজে ভাঁজে শস্য খুজি,

ভয়ঙ্কর রক্তপাতে আপাদমস্তক জ¦ালিয়ে দিতে না পারলে পাপ মোচন হবে না

তাই আমি সাধক হই




লাজুক হাসি


সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি পতিতালয়ও

ধূলোর সাথে সখ্যতা খুব তোমার

তুমি-

শব্দ গুণো

অসীম থেকে শুরু করে শূন্যে নেমে আসো

আগলানো চাতালে

তুমি চাল চোরেদের রাজ্য বানাও

অন্ধকারে অন্ধকারে করোনা হয়ে হজম করো গলা অব্দি


আমি ছোনের ঘরের ছা-পোষা কেরানী-

অন্তরালে অন্তর্বাসে কন্ডম ভায়াগ্রা বৃথাই চালাই

বুকের ভিতর পুষে রাখি হাজার জনপদ

বছর বছর উড়ে বেড়াই, ডিগ্রী আনি

     লাজুক চাহনি...



সাঁতারের ব্যাকরণ


যে গ্রামের কথা বলছ সে গ্রামে আমার মা থাকেন

সবুজ পাতার ছাওনিতে বসে থাকেন অপেক্ষায়-

ব্যাকরণ পাঠ শেষে আমি যখন চলে এলাম সাঁতার শিখতে

হরিণেরা তখন পাতার সন্ধানে

আয়ুষ্কাল মেপে মেপে আমিও আলোচনায় মগ্ন




সাঁকোর ওপার

ক্ষমতাসীন অযৌক্তি জেদ বাদী-বিবাদী-সাক্ষী মানেনা

পাড়া ভুলানো গান শুনিয়ে শীত ঘুম  কিংবা নোবেল প্রাইজ

বহু আগুনের সলিল সমাধি

আবাদি ভূগোলে  রক্ত ঝরিয়ে এশিয়ান হাইওয়ে

নৈকট্য লাভের তৃষ্ণা আর সমুদ্র লবণ; ধ্যান মগ্ন !

আধপোড়া গন্ধ পাও না?

প্রাক-ইতিহাস- বিপন্ন পুরাণ

অথচ সাঁকো বেয়ে ওপারে যাবার কথা বলো।



সাহেবি তত্ত্ব


নীরিক্ষার ভারে ভারে আপনার তত্ত্ব বড় বেশি জ্বালাতনের কারণ হয়ে পড়েছে।

নয় ছয় বুঝিয়ে অন্যের লেজ কাটতে ব্যস্ত। এইবার একটু ক্ষান্ত দিন। প্লিজ!


শ্রমিক বুঝেনা জ্ঞান; শ্রমের মূল্য চায়-

আন্দোলনের ব্যয় না বাড়িয়ে চায় কাজ

দীনাতিদীন মৃত্যুপ্রহর অথবা অভিশাপ চায় না

শাসন আসন থেকে মজুরের পাশাপাশি একটু মৃদু হাসি।




যে কবিতার শিরোনাম নেই


০১

সমাধিস্ত করে দাও রোদে পুড়ে যাওয়া সড়কে

যেখানে বইছে রক্তের নদী

যে শিশুর দাবী নিরাপদে বাঁচার সেতো মরেই গেছে কবে

ডুবে যেতে যেতে যে শিশু চেয়েছিল মাখন গলা চাঁদ আমারই জন্য


পায়ের তালুতে লেগে থাকে জ্যোৎস্না চুপিসারে

দ্রুত অদৃশ্য পা, তাকাই পুনর্বার, দেখি সাদা ফুল আরক্ত লালে


০২

তুমি যাকে বাড়ি বলো সেটা কারাগার

তুমি যাকে স্কুল বলো সেটাও কারাগার

তুমি যাকে অফিস বলো সেটা আরো বড়ো কারাগার...

Post a Comment

0 Comments